সূরা আল-মুদ্দাসসিরে ১৯-এর গাণিতিক মিরাকল
সূরা মুদ্দাসসির কুরআনের ৭৪ নাম্বার সূরা। এই সূরার সবগুলো আয়াত ছোট ছোট, শুধুমাত্র ৩১ নাম্বার আয়াতটি বেশ বড়। সূরা মুদ্দাসসিরের মহান আল্লাহ ১৯ সংখ্যাটির কথা উল্লেখ করেছেন। এই সূরার ৩০ এবং ৩১ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে-

তার উপর রয়েছে ঊনিশজন

আমিই কেবল ফেরেশতাদেরকে জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক করেছি। আর তাদের (এই) সংখ্যাকে কাফিরদের জন্য একটা পরীক্ষাস্বরূপ আমি নির্ধারণ করেছি। আর যেন কিতাবধারীগণ তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে আর ঈমানদারদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবধারীগণ ও ঈমানদারগণ যেন কোন রকম সন্দেহের মধ্যে না থাকে। যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা আর কাফিররা যাতে বলে উঠে, ‘‘ এ ধরণের কথা দিয়ে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন?’’ এভাবে আল্লাহ যাকে চান গুমরাহ করেন আর যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী (কারা এবং এর স্যখ্যা কত সে) সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। আর এ হচ্ছে মানুষের জন্য উপদেশমাত্র।
———————————————————————————————————————————-
এই আয়াত দুটিতে বলা হচ্ছে ১৯ জন ফেরেশতাকে জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছে এবং এই ১৯ এমন একটি সংখ্যা যেটি কাফের, অবিশ্বাসীদের জন্য একটি পরীক্ষাস্বরূপ এবং এই সংখ্যাটি ঈমানদারদের ঈমান বৃদ্ধি করবে। এর অর্থ হলো মানুষ এই সংখ্যার মাধ্যমে নিশ্চিত বিশ্বাসে পৌঁছাবে যে কুরআন প্রকৃতপক্ষেই মহান আল্লাহর প্রেরিত ঐশী বাণী। এই ১৯ সংখ্যাটি কুরানের সত্যতার একটি প্রমাণ। যেহেতু সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিত বিশ্বাসে পৌঁছানো যায় না, আর অলৌকিক ঘটনা নিঃসন্দেহে তেমনই এক চূড়ান্ত প্রমাণ। সুরা আল-মুদ্দাসসির সহ পুরা কুরআনে আমরা ১৯ ভিত্তিক গাণিতিক বিন্যাস পাই, তা এই বিষয়টিকে আরও জোরালো এবং নিশ্চিত করে:
————————-
–সূরা আল-মুদ্দাসসিরের ৩০ এবং ৩১ নাম্বার আয়াতে ১৯ সংখ্যাটির ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩১ নম্বর আয়াতের শব্দ সংখ্যা ৫৭টি , যা ১৯ এর গুণিতক ১৯x৩= ৫৭।
—————————————
–৩০ নম্বর আয়াতটি ৩টি শব্দ নিয়ে গঠিত, عليها تسعة عشر। বিস্ময়করভাবে ৩১ নাম্বার আয়াতের শব্দ সংখ্যা ৩০ নম্বর আয়াতের শব্দ সংখ্যার ১৯ গুণ (৩x১৯= ৫৭)।

— সূরা আল-মুদ্দাসসিরের প্রথম ১৯টি আয়াতের শব্দ সংখ্যা ৫৭,যা ১৯ এর গুণিতক ১৯x৩= ৫৭।
—————-
— সূরা আল-মুদ্দাসসিরের প্রথম ৮ টি আয়াতের শব্দ সংখ্যা ১৯, আর ১৯ হচ্ছে ৮ম প্রাইম নাম্বার।
————
— ১ থেকে ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত—অর্থাৎ “তার ওপর নিয়োজিত রয়েছে উনিশ” (আলাইহা তিসআতা আশার) পর্যন্ত শব্দ সংখ্যা ৯৫টি, অর্থাৎ ১৯×৫।
—-
— সুরা আল-মুদ্দাসসিরের শুরু থেকে ৩০ তম আয়াত বা ১৯ সম্পর্কে উল্লেখিত আয়াতের মধ্যেই ১৯x১৯= ৩৬১ তম অক্ষর পাওয়া যায়।
—–
— এই আয়াতটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ১৯ সংখ্যাটির কথা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এবং কাফের এবং মুমিনদের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রথম অংশে ৩৮টি শব্দ রয়েছে, অর্থাৎ ১৯×২। এর শেষ অংশটি হলো: “আল্লাহ এই রূপকের মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন?”
—-
— দ্বিতীয় অংশে ১৯টি শব্দ রয়েছে, যা প্রথম অংশে বলা কথার ওপর একটি মন্তব্য হিসেবে কাজ করে: “এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে কেবল তিনিই জানেন। এটি তো মানবজাতির জন্য কেবল এক সতর্কবার্তা।”
—-
—تسعة عشر (তিসআতা আশার – উনিশ) বাক্যাংশটি ৭টি অক্ষর নিয়ে গঠিত। আয়াত নাম্বার ৩০, আবার এই বাক্যের মধ্যেই সূরার শুরু থেকে ৩৬৫তম অক্ষর পাওয়া যায়। বছরের দিন (৩৬৫), মাসের দিন (৩০) এবং সপ্তাহের দিন (৭) সবই এক আয়াতের মধ্যে, তার মানে এই আয়াতের সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সম্পর্ক রয়েছে।
——

—-
অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি শুধু সুরা আল-মুদ্দাসসিরের মধ্যে ১৯ সংখ্যা ভিত্তিক বিস্ময়কর প্যাটার্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। আর পুরা কুরআন শরীফ জুরে আরো অসংখ্য ১৯ সংখ্যা ভিত্তিক প্যাটার্ন আছে, যা অবশ্যই একজন ঈমানদার ব্যাক্তির ঈমান অনেক বাড়িয়ে দিবে।
নীচের লিংকে ১৯ সংখ্যা কেন্দ্রিক অসংখ্য প্যাটার্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে-